সোহান ঝড়ে সহজ জয়ে সুপার লিগ শুরু শেখ জামালের

ইনিংসের দ্বিতীয় ও নিজের প্রথম ওভারের প্রথম বলেই শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের মোহাম্মদ আশরাফুলকে বোল্ড করে উসাইন বোল্টের ভঙ্গিতে উদযাপন করেন প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। রাউন্ড রবিন পর্বে শীর্ষে থেকে সুপার লিগ শুরু করা প্রাইম ব্যাংকের এমন উদযাপনের সুযোগ এরপর আসেনি খুব একটা। সৈকত আলি ও ইমরুল কায়েসের শতরানের জুটির পর অধিনায়ক নুরুল হাসানের ঝড়ে ৭ উইকেটের জয় দিয়ে সুপার লিগ শুরু করলো শেখ জামাল।
বৃষ্টি বাঁধায় বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) সুপার লিগ যেন যথা সময়ে শুরুই করা যাচ্ছে না। প্রথম দিন তিন ম্যাচের সূচিই পেছাতে হয়। পরিবর্তিত সূচিতে আজ (২০ জুন) প্রথম ম্যাচও বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। তবে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে মিরপুরে রান উৎসবই দেখা যায়।

আগে ব্যাট করা প্রাইম ব্যাংক মোহাম্মদ মিঠুনের ফিফটির সাথে রকিবুল হাসান, রুবেল মিয়া, এনামুল হক বিজয়দের ছোট ছোট ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৬৪ রানের সংগ্রহ পায়। জবাবে সৈকত আলির ৬০ রানের ইনিংসের সাথে ইমরুল-সোহানের ৪৪ রানের ইনিংসে ১১ বল আগেই জয় পায় শেখ জামাল।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে রুবেল হোসেনের করা প্রথম ওভারেই ১০ রান নেয় শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের দুই ওপেনার মোহাম্মদ আশরাফুল ও সৈকত আলি। তবে শরিফুল ইসলামের করা দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই বাজে শর্ট খেলে বোল্ড হন আশরাফুল (৫)। একই ওভারের পঞ্চম বলে ফিরতে পারতেন সৈকত আলিও। ডিপ মিড উইকেটে ব্যক্তিগত ৫ রানে তার ক্যাচ ছাড়েন নাহিদুল ইসলাম।

১০ রানে ১ উইকেট হারালেও সৈকত ও তিন নম্বরে নামা ইমরুল কায়েসের ব্যাটে জয়ের পথটা মসৃণ হয় শেখ জামালের। ১১তম ওভারে শরিফুলকে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ছক্কা হাঁকিয়ে ২৮ বলেই ফিফটি তুলে নেন সৈকত আলি। এবারের লিগে এটি তার প্রথম ফিফটি।

রুবেল হোসেনের বলে আউট হওয়ার আগে ৩৬ বলে ৬ চার ৩ ছক্কায় ৬৫ রান করেন সৈকত। আর তাতে ভাঙে ইমরুলের সাথে ঠিক ১০০ রানের জুটি। সৈকতের বিদায়ের পর ৫ রানের ব্যবধানে ফিরেছেন ইমরুলও। স্পিনার নাহিদুল ইসলামের বলে রুবেল হোসেনকে ক্যাচ দেওয়ার আগে খেলেন ৪০ বলে সমান দুইটি করে চার, ছক্কায় ৪৪ রানের ইনিংস।

সৈকত-ইমরুলের বিদায়ের পর শেষ ৫ ওভারে ৪৮ রান প্রয়োজন ছিল শেখ জামালের। অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানের ব্যাটে চড়ে যা টপকাতে কোন কষ্ট করতে হয়নি। ১৬তম ওভারে শরিফুলকে লং অফ দিয়ে হাঁকান টানা দুই ছক্কা। পরের ওভারে স্পিনার মনির হোসেনকে হাঁকান আরও একটি করে চার, ছক্কা। ৩ ওভারে এই সমীকরণ নিয়ে আসেন ১৮ রানে। পরে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে দারুণ এক স্কুপে চার মারার সাথে ১৯তম ওভারে রুবেলকে যেভাবে সাবলীল স্লগে ছক্কা হাঁকিয়েছেন তাতে মুগ্ধ হবে যে কেউই।

শেষ পর্যন্ত তার ১৭ বলে ২ চার ৪ ছক্কায় অপরাজিত ৪৪ রানে ভর করে ১১ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে শেখ জামাল। ২৫ বলে ৫০ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটিতে ১২ বলে ৭ রানে অপরাজিত ছিলেন তানবীর হায়দার।
এর আগে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে প্রাইম ব্যাংকের স্কোরবোর্ডে ১ উইকেটে ৪৬ রান। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ইলিয়াস সানির স্পিনে আউট হন ওপেনার রনি তালুকদার (৮ বলে ১১ রান)। সেখান থেকে অধিনায়ক এনামুল হক বিজয় ও রুবেল মিয়ার ৩৪ রানের জুটি। ৮ম ওভারে এই জুটিও ভাঙেন সানি, এবার এলবিডব্লিউর শিকার হলেন রুবেল (২৩ বলে ২১ রান)।

৫১ রানে ২ উইকেট হারানোর পর মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে ৪০ রানের জুটি বিজয়ের। জিয়াউর রহমানের করা ৯ম ওভারের শেষ বলে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে দারুণ এক চার হাঁকান মোহাম্মদ মিঠুন। পরের ওভারে সানিকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে হাঁকান ছক্কা। একই ওভারের শেষ বলে ফাইন লেগে বিজয়ের দেওয়া সহজ ক্যাচ ছাড়েন এবাদত হোসেন। ক্যাচ ঠিকঠাক লুফে নিতে পারলে বিজয় ফিরতেন ব্যক্তিগত ২২ রানে।

তবে জীবন পেয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি প্রাইম ব্যাংক অধিনায়ক। জিয়াউর রহমানের করা ১৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ফিরেছেন ফিরতি ক্যাচ দিয়ে। নিরীহ বলে উইকেট বিলিয়ে ফিরেছেন ২১ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ২৯ রানে।

এরপর রকিবুল হাসানকে নিয়ে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেওয়ার কাজটা করেন মোহাম্মদ মিঠুন। প্রথম ১৫ ওভারে ১০৪ রান তোলা প্রাইম ব্যাংক শেষ ৫ ওভারে তোলে ৬০ রান। দুজনে জুটিতে যোগ করে ৪০ বলে ৭৩ রান।

৩৬ বলে টুর্নামেন্টে তৃতীয় ফিফটি ছুঁয়ে মিঠুন অপরাজিত ছিলেন ৪৭ বলে ৭ চার ২ ছক্কায় ৬৭ রানে। এবাদত হোসেনের করা ইনিংসের শেষ ওভারে আসা ১৭ রানের ১৬ রানই নেন মিঠুন, হাঁকিয়েছেন ১ ছক্কা, ২ চার। ১৯ বলে ৪ চার ১ ছক্কায় রকিবুল অপরাজিত ছিলেন ৩৪ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ
প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ১৬৪/৩ (২০), রনি ১১, রুবেল ২১, বিজয় ২৭, মিঠুন ৬৭*, রাকিবুল ৩৪*; সানি ৪-০-২৯-২, জিয়া ৪-০-২৯-১

শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ১৬৫/৩ (১৮.১), সৈকত ৬০, আশরাফুল ৫, ইমরুল ৪৪, নুরুল ৪৪*, তানবীর ৭*; রুবেল ৩.১-০-৩৬-১, শরিফুল ৩-০-২৮-১, নাহিদুল ৪-০-২৩-১

ফলাফলঃ শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ৭ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরাঃ সৈকত আলি (শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব)।